চলতি অর্থবছরের বাজেটে ই-বাইক এবং লিথিয়াম ও গ্রাফিন ব্যাটারি স্থানীয় (বাংলাদেশ) পর্যায়ে উৎপাদনে ব্যাপক করছাড় দিয়েছে সরকার। তারপরও কোনো বিনিয়োগকারী এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে কেউ আবেদনও করেননি।
জানা যায়, লিথিয়াম ও গ্রাফিন ব্যাটারির স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদনে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সব ধরনের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৫ শতাংশের অতিরিক্ত মূসক এবং পণ্য দুটি উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানি ও স্থানীয়ভাবে ক্রয়ের ক্ষেত্রে সব ধরনের মূসক (আগাম করসহ) ও সম্পূরক শুল্ক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
এছাড়া ই-বাইক (টু-হুইলার) উৎপাদনে ৫ শতাংশ অতিরিক্ত মূসক ও প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানি কিংবা স্থানীয়ভাবে ক্রয়ের ক্ষেত্রে সব ধরনের মূসক (আগাম করসহ) ও সম্পূরক শুল্ক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তবে এসব সুবিধা পেতে বেশকিছু শর্ত পালন করতে হবে বিনিয়োগকারীকে। এগুলো হলো বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক কর্তৃপক্ষ বা বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ থেকে ই-বাইক (টু-হুইলার) উৎপাদনের মেকারস কোড ও টাইপ অনুমোদন নিতে হবে।
চেসিস তৈরির জন্য কারখানায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থা এবং প্লাস্টিক অংশ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করতে হবে। ই-বাইকের প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য উৎপাদনের মেশিনারি কারখানা প্রাঙ্গণে থাকতে হবে। নিজস্ব পেইন্ট শপ থাকতে হবে এবং রঙ করার কাজ কারখানাতেই সম্পন্ন করতে হবে। ইলেকট্রিক মোটরের যন্ত্রাংশ নিজস্বভাবে উৎপাদন করতে হবে।
ই-বাইক প্রস্তুতকারীকে নিজস্বভাবে উৎপাদিত ব্যাটারি ব্যবহার করতে হবে অথবা স্থানীয় উৎপাদনকারীর কাছ থেকে কিনতে হবে, যার চুক্তিনামা থাকতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ আইএসও সনদ থাকতে হবে। কারখানায় কমপক্ষে ২৫০ জন কর্মী থাকতে হবে। গ্রাহকসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অধীন বিক্রয় কেন্দ্র, যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও সেবা কেন্দ্রসহ বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করতে হবে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে টেস্টিং, কোয়ালিটি কন্ট্রোল ও প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এসব কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় মেশিনারি থাকতে হবে। পণ্য তৈরিতে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করতে হবে।
এসব শর্ত প্রসঙ্গে এনবিআরের প্রথম সচিব (কাস্টমস নীতি) মু. রইচ উদ্দিন খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিডার সঙ্গে এ বিষয়ে এনবিআরের বৈঠক হয়েছে। কিছু শর্ত শিথিলের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
এদিকে স্থানীয়ভাবে ই-বাইক (দুই চাকা) ও অ্যাকসেসরিজ উৎপাদনের জন্য কিছু উপকরণে কাস্টমস ডিউটি বা আমদানি শুল্ক ১ শতাংশ দিতে হবে। আবার কিছু উপকরণে আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ পর্যন্ত দিতে হবে, তবে বেশি হলে অব্যাহতি মিলবে। এছাড়া রেগুলেটরি ডিউটি বা নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সমুদয় সম্পূরক শুল্ক (যদি থাকে), মূসক ও আগাম কর অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইআরসি (আমদানি ও রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে ইস্যুকৃত হালনাগাদ শিল্প ভোক্তা), ভ্যাট কমপ্লায়েন্স, ই-বাইক ও অ্যাকসেসরিজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হতে হবে।
ওয়ালটনের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম শোয়েব এইচ নোবেল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ই-বাইক ও লিথিয়াম ব্যাটারির পাশাপাশি আমরা গ্রাফিন ব্যাটারি উৎপাদনে আগ্রহী। কিন্তু এনবিআর এ বিষয়ে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। তাই আমরা এখনো আবেদন করিনি।’
লিথিয়াম ও গ্রাফিন ব্যাটারি স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের জন্য কিছু উপকরণে কাস্টমস ডিউটি বা আমদানি শুল্ক ১ শতাংশ দিতে হবে। তবে সমুদয় রেগুলেটরি ডিউটি বা নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও মূসক (যদি থাকে) অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রেও অনেক শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। এসব সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
বাংলাদেশ লিথিয়াম ব্যাটারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মীর মাসুদ কবীর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এনবিআর যেসব শর্ত দিয়েছে এগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই বাস্তবায়ন অসম্ভব। এগুলো আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’